রবিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৬

আমাদের সম্পর্কে কোনো প্রেম বা আবেগ নেই

'আমাদের সম্পর্কে কোনো প্রেম বা আবেগ নেই'
সামাজিক মনোবিজ্ঞানী এবং যৌন বিশেষজ্ঞ ড. পেত্রা বয়টনের কাছে দাম্পত্য জীবনের এক বড় সমস্যা তুলে ধরলেন এক তরুণ। তিনি লিখেছেন, আমি এবং আমার প্রেমিকা দুজনই তিরিশের কোঠায় রয়েছি। আমাদের দুজনেরই আগে বিয়ে হয়েছিল। ডেটিংয়ের সময় সবকিছু নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয় আমাদের। তার শর্ত ছিল, বিয়ের আগে আমরা কখনোই সেক্স করবো না। আমিও এতে একমত হই। কিন্তু সামান্য হাত ধরা, জড়িয়ে বুকে নেওয়া বা চুম্বনের মতো বিষয়গুলোও এড়িয়ে যায় সে। তাহলে আমাদের রোমান্স বলতে তো কিছুই থাকলো না। সে বলে যে, বিয়ের পর ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ক্রমশই সে এসব ব্যাপার নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এখন আমার করণীয় কি? এখানে বিশেষজ্ঞের ভাষায় চিঠির জবাব তুলে ধরা হলো। সম্পর্ক সব সময় উপভোগ্য হওয়া উচিত। যা নিয়ে সুখী নন, তা শেষ করে দেওয়াটা স্বার্থপরতা বা অযৌক্তিক কারণ নয়। আপনারা কি সুখী? বর্তমানে আপনারা দুজন কি চাইছেন? একসঙ্গে থাকার পেছনের কারণ কি? এ ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে বলা যায়, যৌন আকাঙ্ক্ষার অভাব রয়েছে। অথবা তাকে এ বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে পারছেন না। হয়তো সঙ্গিনী তা করতে আগ্রহী। কিন্তু বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে চাইছেন। এখানে সঙ্গিনী যেভাবে সেক্স ও সাধারণ রোমান্স থেকে দূরে থেকে চাইছেন, তাতে করে রাতের অন্তরঙ্গ ডেটিং সমাধান বয়ে আনতে পারে। আবার মেয়েটি হয়তো সঙ্গীর প্রতি দারুণভাবে আকৃষ্ট। কিন্তু যে ভালোবাসা আশা করছেন তা পাচ্ছেন না। তার আগের বিয়েটির ইতি যদি বাজে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ঘটে, তবে তিনি নতুনদের মতো শুরু করতে চান। অতীতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকলে তার কাছে যৌনতা যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতি হয়ে রয়েছে। তাই একে খুব বাজে কোনো বিষয় বলেই হয়তো মনে করেন। সঙ্গিনীর এমন আচরণে সঙ্গীরও ভেবে দেখার আছে। পরিবর্তনের আশা নিয়ে কি অপেক্ষায় থাকা উচিত? আবার একাকী হয়ে যাওয়ার ভয় আছে কি? এ পরিস্থিতিতে দুজনের মধ্যে খোলামেলা আলোচনার বিকল্প নেই। অর্থপূর্ণ উপায়ে যতক্ষণ না অনুভূতি বা চাহিদার কথা খোলাসা করা যাবে, ততক্ষণ সমাধান মিলবে না। তবে সেক্স না করার পেছনের ইতিবাচক কারণ হতে পারে নিরাপত্তাবোধ করা ও মানসিকভাবে প্রস্তুত না থাকা। উভয়ের ইচ্ছা প্রকাশে আগ্রহ বাড়তে পারে। আবার প্রথম সেক্সের আবেগ ও উত্তেজনা চূড়ান্তভাবে উপভোগ করতে হয়তো বিশেষ উপলক্ষের অপেক্ষায় আছেন তিনি। কিন্তু বড় সমস্যা হবেই যখন দুজনের একজন ঠিক করতে চাইবেন কখন সেক্স হবে আর কখন হবে না।   যেভাবে আলোচনা করতে হবে : বিষয়টি স্পষ্টভাবেই দুশ্চিন্তার উদ্রেক করে। তাই অপরের সঙ্গে সরাসরি আলাপ করা উচিত। দুজনের কথা-চিন্তা শেয়ার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো আলাপচারিতার বিষয় হতে পারে তা জেনে নেওয়া যাক। ১. বিবাহিত জীবনটাকে কিভাবে দেখতে চাইছেন তারা। ২. একসঙ্গে থাকার বিষয়টি কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে? ৩. পারস্পরিক প্রেম নিবেদনের বিষয়টি কেমন হতে পারে? ৪. অন্তরঙ্গতা নিয়ে কিভাবে আলাপ করা যায়? ৫. সেক্স বলতে দুজনের মনে কি কাজ করে? ৬. বিয়ের পর সেক্স, এর পেছনে যৌক্তি বিষয় কি কি? ৭. যৌনকর্ম নিয়ে কোনো ভয় বা দুশ্চিন্তা কাজ করে কি? ৮. যদিও মনে হচ্ছে যে, বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু যদি না হয়, তাহলে কি হবে? এই বিষয়গুলো আলোচনা না করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে না। আর ফলপ্রসু আলোচনা হলে সমাধান সম্ভব। তবে অশনিসংকেত তখনই দেখা দেবে যখন এগুলো নিয়ে কোনো আলোচনা করতে চাইবেন না কেউ একজন। সূত্র : টেলিগ্রাফ - See more at: http://www.kalerkantho.com/online/lifestyle/2016/01/31/319597#sthash.mavu0hyX.dpuf

আমাদের সম্পর্কে কোনো প্রেম বা আবেগ নেই Rating: 4.5 Diposkan Oleh: master on

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন