সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৬

‘আমাকে ও মাকে রাতে ১০ পুরুষও ধর্ষণ করত’


ভারতের দিল্লির গুরগাঁওয়ে সৌদি দূতের বাসায় লোমহর্ষক  নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেছেন নেপালি দুই গৃহকর্মী মা ও মেয়ে। তাঁদের ভাষ্য, উত্তর প্রদেশের নেইনিতাল ও আগ্রার মতো স্থানগুলোতে ১০ জনের বেশি লোকজনের সঙ্গে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে তাঁদের।
‘তাদের কাছে আমরা কুকুরের চেয়েও অধম ছিলাম। ২৪ ঘণ্টায় আমাদের কেবল বিস্কুট ও চা দেওয়া হতো। কূটনীতিক তাঁর বন্ধুদের কাছে  আমাদের তুলে দিত, যারা যৌন নির্যাতন চালাত। আর তাঁর (কূটনীতিক) স্ত্রী আমাদের মারধর করত। বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় আমাদের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হতো।’
অভিযোগকারী নারী জানান, “গত ৪ মাস আমাদের কাছে অভিশাপের মতো ছিল। বীভত্স অভিজ্ঞতা, ভেবেছিলাম ওই বাড়ির মধ্যেই মরে যাবো, আমাদের পরিবার কোনওদিন আমাদের লাশ খুঁজে পাবে না।” সোমবার অ্যাম্বিয়েন্স আইল্যান্ড কাইট্রিওনা কমপ্লেক্সের ৬ তলা থেকে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে হরিয়ানা পুলিশ। নেপাল দূতাবাস ও মাইতি নেপাল ভারত নামের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্যেই উদ্ধার করা হয় তাদের।অভিযোগকারী নারীর মা জানান, “এমনও দিন গেছে যখন সৌদি আরব থেকে আসা ৭ থেকে ৮ জন যুবক একসঙ্গে ধর্ষণ করেছে আমাদের। বাধা দিতে গেলে আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হত।” মাঝে মাঝে সারাদিন তাদের অভুক্ত রাখা হত বলেও জানিয়েছেন মা, মেয়ে। তবে গোসল করতে দেওয়া হত। শুধুমাত্র বাড়ির অতিথিদের সামনে যাওয়ার আগে। যারা তাদের ধর্ষণ করতো।মেয়ে জানান, “বাড়ির সব কাজ আমরা করতাম। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। আর তারপর রাতে চলতো ধর্ষণ। খেতে দেওয়া হত না। মাঝে মাঝে শুধু বিস্কুট, রুটি, পানি আর চা খেয়ে থাকতে হতো। কোনওদিন বাড়ির বাইরে যেতে দিতো না।” মাঝে মাঝে তাদের নৈনিতাল ও আগ্রা নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হতো বলেও জানিয়েছেন মেয়ে।
‘আমরা ওই বাড়িতে কাজে যোগ দেওয়ার পরই ১৫ দিনের জন্য আমাদের সৌদি আরব নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমাদের সঙ্গে কখনও খারাপ ব্যবহার করা হয়নি। মে মাসে ভারতে ফিরে আসার পর আমাদের উনাকে ম্যাসাজ করে দিতে বলেন, তারপরই আমাদের ধর্ষণ করেন, অস্বাবাবিক যৌনমিলনে বাধ্য করেন। এরপর থেকে রোজই ওনার বন্ধুদের হাতে অত্যাচারিত হতে ছেড়ে দিতেন আমাদের, জানান মেয়ে।
মাইকি ভারত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য বালকৃষ্ণণ পাণ্ডে সংবাদ সংস্থা আইএএনএস জানান ওই বাড়িতে আরও এক নারী কাজ করতেন। কিন্তু তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। ৬ মাস আগে নেপালে এক নারী সৌদি আরবে মোটা মাইনের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মা ও মেয়েকে দিল্লি নিয়ে আসেন বলে জানা গিয়েছে।
ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৪২, ৩৭৬-এর ২, ৩৭৬-এর ডি, ৩৭৭, ৫০৬ এবং ১০২-এর বি ধারা অনুযায়ী অন্যায়ভাবে বন্দি করে রাখা, হেফাজতে থাকা নারীকে জোর করে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যার হুমকি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার নবদ্বীপ সিং জানিয়েছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি দূতাবাসকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছে পুলিশ। ওই ব্যক্তি কূটনৈতিক দায়মুক্তি পাবেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে সৌদি সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী এ ঘটনার তদন্ত চলবে বলেও জানান তিনি।

‘আমাকে ও মাকে রাতে ১০ পুরুষও ধর্ষণ করত’ Rating: 4.5 Diposkan Oleh: master on

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন